দ্বিতীয়বার NEET পরীক্ষার আগে বড়সড় প্রতারণার চক্রের পর্দাফাঁস, পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করল প্রশাসন
NEET UG 2026 পুনঃপরীক্ষার ঠিক তিনদিন আগে রাজস্থানে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে “লিক হওয়া প্রশ্নপত্র” দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তবে তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে, বিক্রি করা প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল এবং পরীক্ষার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেই এই চক্র সক্রিয় ছিল।
ঘটনার পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্রের কোনও দাবিই বিশ্বাসযোগ্য নয়। শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই পরীক্ষার তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে চলছিল প্রতারণার চক্র?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্র টেলিগ্রামে একাধিক গ্রুপ ও চ্যানেল তৈরি করে সেখানে দাবি করত যে তার কাছে দ্বিতীয়বার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া NEET পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র রয়েছে। এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে সে ভুয়ো স্ক্রিনশট, এডিট করা নথি এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র ব্যবহার করত।
প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নেওয়া হতো। কেউ টাকা পাঠানোর পর তাকে একটি PDF ফাইল পাঠানো হতো, যা পরে সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়।
VPN ব্যবহার করে পরিচয় গোপন
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত নিজের পরিচয় গোপন রাখতে VPN এবং প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করত। এতে তার প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন নজরদারির পর প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে পুলিশ তার অবস্থান নিশ্চিত করে এবং রাজস্থানের ভিলওয়ারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং টেলিগ্রাম অ্যাডমিন প্যানেলের ডেটা বাজেয়াপ্ত করেছে। বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয়বার NEET পরীক্ষা কেন?
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত NEET পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই অসাধু চক্র পরীক্ষার্থীদের আতঙ্ক এবং উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রির ব্যবসা শুরু করে।
NTA-এর কড়া সতর্কবার্তা
জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—
- টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিক্রি হওয়া প্রশ্নপত্র সম্পূর্ণ ভুয়ো।
- NTA কখনও অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র বা পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনও তথ্য সরবরাহ করে না।
- পরীক্ষার্থীদের শুধুমাত্র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করতে হবে।
- ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়ানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
পুলিশের পরামর্শ
তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
- “১০০% কমন প্রশ্ন” বা “লিক হওয়া প্রশ্নপত্র”— এমন কোনও দাবিতে বিশ্বাস করবেন না।
- অচেনা টেলিগ্রাম চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন না।
- কোনও সন্দেহজনক বার্তা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম পোর্টাল বা স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানান।
- পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিন এবং শুধুমাত্র সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন।
অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
পরীক্ষার আগে অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। সেই সুযোগ নিয়েই প্রতারকরা দ্রুত সাফল্যের প্রলোভন দেখায়। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সচেতন করা এবং কোনও সন্দেহজনক অফার বা প্রশ্নপত্র কেনার প্রস্তাব এলে তা অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা।
কেন বাড়ছে টেলিগ্রামে প্রতারণা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিগ্রামে সহজে গ্রুপ তৈরি করা যায়, সদস্য সংখ্যা অনেক বেশি রাখা সম্ভব এবং পরিচয় গোপন রাখার বিভিন্ন সুবিধা থাকায় প্রতারকরা এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এমন একাধিক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে।












